Breaking News

দিঘায় যশের প্রভাবে বৃষ্টি- জলোচ্ছ্বাস, সরানো হচ্ছে ১লক্ষ মানুষকে

Post Views: website counter

 

ঘুর্নিঝড় যশ এর দাপটে রবিবার রাত থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত।ফলে রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে কার্যত বিপদ ঘন্টার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।

সোমবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান থাকলেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করল সমুদ্র সৈকত দিঘাতে। সোমবার সকাল থেকে দিঘা সহ আশেপাশের সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় কাল মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখা যায় এবং পরে দফায় দফায় বৃষ্টি শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায়।

এদিন থেকেই দিঘা সহ আশেপাশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয় জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে। অন্যদিকে সোমবার দুপুরেই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে নৌ বাহিনীর সদস্যরাও দিঘাতে এসে উপস্থিত হয়। সোমবার থেকেই দিঘা সমুদ্র সৈকতে জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়ে যায়। দিনভর ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে চলে নজরদারি । প্রায় ৬- ৭ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সৈকত গুলিতে জলোচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

পাশাপাশি ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে দিঘা সহ জেলার বিভিন্ন উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে প্রায় এক লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হচ্ছে। সোমবার দুপুর থেকেই সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে জেলার মোট ৯৫০টি আশ্রয় শিবিরে ওই এক লক্ষ সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে আসার কাজ সম্পন্ন হবে। জেলার বিভিন্ন ফ্লাড সেন্টার, স্কুল, হোটেল এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোতে উপকূলের সাধারণ মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যেখানে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল, শুকনো খাবার, মাছ এবং স্যানিটাইজারের উপযুক্ত পরিমাণে ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেহেতু করোনা আবহ চলছে তাই প্রত্যেকটি আশ্রয় কেন্দ্রে ৫০শতাংশ করে মানুষকে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে।

ঝড়ের দিন রাতে জেলাশাসকের দপ্তরে থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের শ্রম দপ্তরের প্রধান সচিব বরুণ রায়, জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাঝি সহ জেলার অন্যান্য আধিকারিকদের। এছাড়াও ঝড়ের দিন থেকে শুরু করে আরো দুদিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সমস্ত বিডিও অফিস সারাদিন খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে উপযুক্ত পরিমাণ ত্রিপল ত্রাণ সামগ্রী জেলায় পৌঁছে গিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, উপকূল সংলগ্ন রামনগর ১ ও ২, কাঁথি ১ ও ২, খেজুরি ১ এবং নন্দীগ্রাম ১ ব্লকে মোট ৯৫০ টি আশ্রয় শিবির খোলা হচ্ছে। সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত  প্রায় ১ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

অপরদিকে শংকরপুর চাঁদপুর,জামড়া, শ্যামপুর প্রভৃতি এলাকায় সমুদ্র বাঁধে দ্রুতগতিতে ব্ল্যাক স্টোন ফেলার কাজ চলছে। প্রসঙ্গত যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় সমুদ্র বাঁধ টপকে সমুদ্রের জল গ্রামে ঢুকে যায় সেই কারণে প্রশাসনের বাড়তি নজর রয়েছে ওই সমুদ্র বাঁধ নিয়ে। গতকাল রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি ও সমুদ্র বাঁধ পরিদর্শন করেছেন।

সেই সঙ্গে আজ সকাল থেকে রামনগর এক ব্লকের সভাপতি শম্পা মহাপাত্র ও কাঁথি পৌরসভার প্রশাসক মন্ডল এর সদস্য সুপ্রকাশ গিরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *