Breaking News

“যশ” মোকাবিলায় দিঘা জুড়ে দিনভর মাইকিং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর

Post Views: website counter

 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর বিধানসভা এলাকার শংকরপুর থেকে তাজপুর যাওয়ার রাস্তার সমুদ্র বাঁধ মেরামতির কাজ চলছে।রবিবার সকালে সেই কাজ সরজমিনে খতিয়ে দেখলেন রামনগর এক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মহাপাত্র।

সেই সঙ্গে এলাকাবাসীরদের সাথে কথা বলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।প্রসঙ্গত জামড়া শ্যামপুরে রাস্তা টপকে সমুদ্রের জল গ্রামের মধ্যে ঢুকে যায় ওই এলাকাতে নিয়ে প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি।গতকালই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন।

রবিবার বিকেল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান ছিল এই ঘূর্ণিঝড়ের। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলে গুলিতে এই ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। আর সেই মতো রবিবার সকাল থেকে দিনভর মাইকিং প্রচার চালালো জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারে প্রস্তুতিতে কোনরকম খামতি রাখতে চাইছে না পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন।

তাই ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাঝি নিজেই সরেজমিনে জেলার উপকূলবর্তী ব্লক গুলি পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েছেন। দফায় দফায় বৈঠক করছেন জেলার বিভিন্ন আধিকারিকদের নিয়ে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলের গ্রামগুলির বাসিন্দাদের ২৬টি রেসকিউ সেন্টারে সরিয়ে নিয়ে আসার কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর জওয়ানরা দিঘা, তাজপুর, মন্দারমনি সহ বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকার গ্রামগুলি ঘুরে ঘুরে গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকার জন্য বলেছেন।

রবিবারও জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে দিঘা সহ উপকূলের অঞ্চলগুলিতে উপযুক্ত পরিমাণে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ের সময় যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাঁচটি দল ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন করা হয়েছে। দুটি দলকে রাখা হয়েছে রামনগর ১ ও ২ ব্লক এলাকায়। অন্যদিকে আর বাকি দুটি দলকে রাখা হয়েছে কাঁথি ও হলদিয়া এলাকায়। বাকি আর একটি দলকে স্ট‍্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে।

ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক আরো দুটি দলের জন্য রাজ্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। হয়তো সেই দুটি দল আজকের মধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পৌঁছে যাবে। এছাড়াও জেলার কন্ট্রোলরুম দুটিতে যথেষ্টভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে। পাশাপাশি হলদিয়া উপকূল রক্ষী বাহিনীর তরফ থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।

মাঝ সমুদ্রে গিয়ে ও প্রচার চালাচ্ছেন তারা। যাতে মাঝে সমুদ্রে কোন মৎস্যজীবী না থেকে থাকেন সে জন্য আবেদন জানাচ্ছেন তারা। এর মাঝে মূল চিন্তার ভাঁজ ফেলাচ্ছে তাজপুর ও শংকরপুরের নদী বাঁধ। গত আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ে এই নদীর বাঁধ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে সমুদ্র উত্তাল হলেই আশেপাশের একাধিক গ্রামে জল প্রবেশ করতে শুরু করে। বর্তমানে প্রায় এক কিলোমিটার নদী বাঁধের কাজ সম্পন্ন হলেও। বাকি কাজ এখনো অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে।

যেহেতু বুধবার একেবারে ভরা কোটাল তাই নদীর বাঁধ নিয়ে বাড়তি চিন্তার ভাঁজ জেলা প্রশাসনের কাছে। আশঙ্কা করা যাচ্ছে তিন থেকে চার ফুট ঢেউ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী মঙ্গলবার থেকে। তাই ওই সময় যাতে কোনো মানুষ সমুদ্র পাড়ে যেতে না পারেন সে জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমেও চলছে নজরদারি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাঝি বলেন, “যশের বিরুদ্ধে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোভিড বিধি মেনেই নিচু এলাকার মানুষ এবং মাটির বাড়ির আশ্রয়ে থাকা মানুষদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিডিওদের ওপর এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় সমুদ্র বাঁধের কাজ রাতের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে বলা হয়েছে সেচ দপ্তরকে।”

রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রী অখিল গিরি জানিয়েছেন সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় স্তরেও পরিস্থিতির উপরে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *