Breaking News

নন্দীগ্রাম সফরে রাজ্যপালঃতৃনমূলের অভিযোগ সরকারি টাকায় বিজেপির প্রচার

Post Views: website counter

 

কোচবিহারের পর নন্দীগ্রাম।ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের সরজামিন তদন্তে গেলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় । আর সেই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে শাসক দল ।

শনিবার নন্দীগ্রামের নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গাড়িতে চেপে ‘হিংসা কবলিত’ এলাকা পরিদর্শন করলেন রাজ্যপাল  । নন্দীগ্রাম বাজারে, বঙ্কিম মোড়, কেন্দামারিতে যান রাজ্যপাল। আর একে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরো বাড়লো

রাজ্যপালের সফর প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের সেচ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন,রাজ্যপালকে সাধারণ মানুষ এড়িয়ে চলছেন।নন্দীগ্রামে এসে বিজেপির দুই থেকে চার জন লোককে নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন।তাকে কেউ কোনো অভিযোগই জানাননি। রাজ্যপাল হিংসার একথা বলতেই পারেন। রাজ্যের যেমন রাজ্যপাল রয়েছেন,তেমনি মুখ্যমন্ত্রী, বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সুশীল সমাজও রয়েছেন। সকলেই রাজ্যপাল সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য পোষণ করেন। যদিও জনপ্রতিনিধি হয়ে আমি কোন মন্তব্য করব না। তবে কান পাতলেই সে কথা আপনারা শুনতে পারেন, পাবেন।

নন্দীগ্রাম পরিদর্শনে এসে রাজ্যপাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “এক দিকে কোভিড, অন্য দিকে নজিরবিহীন ভাবে ভোট পরবর্তী হিংসা, যা কি না সম্পূর্ণ ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই দুইয়ের জেরে বাংলা অত্যন্ত সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভোটের পর এই ধরনের হিংসার কথা কোনও দিন শুনিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ, বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করার সময় এসেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন।’’

রাজ্যে ভোটের ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা উঠে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজ্যে এসে হিংসা কবলিত স্থানগুলি পরিদর্শন করে গেছেন। রাজ্যপালের এই ধরনের সফরকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফ থেকে রাজ্যপালের এই ধরনের সফর রাজনৈতিক সফর বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যপাল হিংসা কবলিত এলাকাগুলিতে গিয়ে ইন্ধন যোগাচ্ছেন বলেও রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

রাজ্যপালের নন্দীগ্রাম পরিদর্শন নিয়ে তৃনমূলের ব্লক সভাপতি স্বদেশ দাস বলেন রাজ্যপাল কেন,যে কেউ এখানে আসতে পারেন ।কিন্তু শান্তির কথা বলতে এসে পক্ষপাত দুষ্ট হতে পারেন না ।তিনি কোন একবারও বিজেপির হাতে আক্রান্ত মানুষদের দু:খ-যন্ত্রনা-অত্যাচারের কাহিনী শোনার চেষ্টা করলেন না ।বিজেপির দলীয় কোন্দলে আক্রান্তদের বাড়ি গিয়ে তৃনমূলের উপর দায় চাপালেন।অথচ বিজেপি দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হওয়া রবীন মান্নার বাড়িতে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি।বিজেপির দুষ্কৃতীদের হাতে সন্ত্রাস কবলিত সোনাচুড়া ,ভেকুটিয়া,হরিপুর,কেন্দেমারি প্রভৃতি এলাকায় গেলেন না । ক্ষুব্ধ স্বদেশ দাসের অভিযোগ সরকারি টাকা খরচ করে এটা বিজেপিকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা

নন্দীগ্রামের হিংসা কবলিত এলাকা গুলিতে পরিদর্শনে আসেন রাজ্যপাল। শনিবার সকাল দশটার কিছুটা আগে নন্দীগ্রামের হরিপুরে বিএসএফের হেলিকপ্টারে করে এসে পৌঁছান রাজ্যপাল। সেখানে রাজ্যপালকে স্বাগত জানান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এরপর রাজ্যপাল কনভয় নিয়ে নন্দীগ্রামের কেন্দামারিতে পৌঁছান। আক্রান্ত পরিবারদের কাছে রাজ্যপাল পৌঁছানো । রাজ্যপালের পায়ে লুটিয়ে পড়তে শুরু করেন আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা। রাজ্যপালও কার্যত তাদের শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো রকম খোঁজ নেওয়া হয়েছে নাকি রাজ্যপাল খোঁজ নেন আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের থেকে। রাজ্যপাল আসার খবর জানতে পেরে আশেপাশের গ্রাম থেকেও বহু আক্রান্ত পরিবার ছুটে আসেন রাজ্যপালের কাছে তাদের অভিযোগ জানাতে।

এদিন রাজ্যপাল যখন ভোট-পরবর্তী হিংসায় মৃত বিজেপি কর্মী দেবব্রত মাইতির বাড়ি চিল্লাগ্রামছ পৌঁছান। রাজ্যপালের পায়ে কান্নায় লুটিয়ে পড়েন দেবব্রত মাইতি স্ত্রী কল্পনা মাইতি। কিভাবে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে খুলে বলেন রাজ্যপালকে। নন্দীগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *