Breaking News

“রাজমুকুট”- নাটকটি দিল নতুন পথের সন্ধান

Post Views: website counter

ইন্দ্রজিৎ আইচ

মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার বিগত পঁচিশ বছর ধরে মূকাভিনয় চর্চার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও তারা তাদের মঞ্চ সফল মূকাভিনয় ও মুক-নাটক প্রযোজনা মঞ্চস্থ করে প্রশংসা অর্জন করে চলেছে। শুধুমাত্র নির্বাক প্রযোজনার মধ্যে আটকে না থেকে এবার তারা প্রযোজনা করল সবাক নাটক “রাজমুকুট”।

সম্প্রতি ইমন-এর নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি পদাতিক মঞ্চে মঞ্চস্থ হল এই নাটকটি। নাট্যকার দীপায়ান ভট্টাচার্য রচিত নাটকটির সম্পাদনা, আবহ নির্মাণ এবং যথাযথ নির্দেশনার মাধ্যমে জীবন অধিকারী ইমন-এর প্রথম সবাক নাট্য প্রযোজনা “রাজমুকুট”-কে প্রাণ দান করেছেন। স্বার্থ সর্বস্ব রাজা ছাপ্পান্নকীর্তি নিজের সাম্রাজ্য ও প্রতিপত্তির জমক প্রদর্শন করতে নির্মাণ করাতে চান পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর রাজমুকুট।

রাজা তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের আসল প্রাণশক্তি সাধারণ মেহনতি প্রজাদের চরম বিপদের মুখে ফেলে দিতেও পিছপা হন না। দেশে যখন বন্যা, শস্যহানি, দুর্ভিক্ষ, মহামারী-র ফলে মানুষ বিপর্যস্ত, তখন রাজা মেতে থাকেন তার বিলাসব্যসনে। কিন্তু নাটকের শেষ অংশে দুই স্বর্ণকার জগা আর বিশে রাজার জন্য তৈরি রাজমুকুটে বিষ মাখিয়ে রাজাকে বাধ্য করে তার গদি থেকে নেমে এসে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে, যেখানে সেই মানুষই তার বিচার করবে।

ধীরাজ হাওলাদার-এর কোরিওগ্রাফি-তে নাটকটিতে কোরাস ও মূকাভিনয়-এর ব্যবহার বিশেষ মাত্রাদান করেছে। সঞ্জয় নাথ এর আলোর খেলাও চোখে পড়ার মত। প্রহরী চরিত্রে সুখেন্দু বিশ্বাস ও প্রদীপ রায়চৌধুরী, দুই স্বর্ণকার জগা ও বিশে চরিত্রে যথাক্রমে অনুপ মল্লিক ও বিপ্লব রায় এবং রাজা ছাপ্পান্নকীর্তি চরিত্রে জয়ন্ত সাহা দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

সংগীতে আবেরী হালদার ও অনন্যা চক্রবর্তী এবং অন্যান্য চরিত্রে সৃজা হাওলাদার, ইন্দ্রজিৎ দত্তবণিক, প্রীতি দাম, আলমগীর মন্ডল, কনকেন্দু খাসনবিশ নজর কাড়েন। সব মিলিয়ে বলা যায় মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার-এর প্রথম সবাক নাট্য প্রযোজনা “রাজমুকুট” একটি দর্শক প্রশংসিত ও সময়োপযোগী প্রযোজনা হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *