Breaking News

চন্ডীতলা পম্পটার নাট্যদলের নাট্য কর্মশালা

Post Views: website counter

ইন্দ্রজিৎ আইচ

প্রতি বছরের মতোই এবছরও চন্ডীতলা প্রম্পটার তাঁর নিজস্ব কলাকেন্দ্রে তিন দিনের নাট্য কর্মশালা র আয়োজন করেছিল। এক কথায় শিরোনাম বলা যায় ” অভিনয় শেখার আসর” প্রায় ৩২ জন শিক্ষার্থী এই আসরে অংশগ্রহণ করে।

মেদিনীপুরের নন্দ কুমার, সোদপুর, মধ্যমগ্রাম, শ্রীরামপুর, ঢাকুরিয়া, গড়িয়া, হাওড়া থেকে কয়েকজন এসেছিল।প্রশিক্ষণে ছিল শ্রদ্ধেয় সঞ্জীব সরকার, চন্দন সেন, কাজল শম্ভু, স্বজন সৃজন, ও কৃষ্ণেন্দু ভট্টাচার্য্য। দলের কর্নধার প্রদীপ রায় জানালেন” নতুন প্রযোজনা নামার আগে ছেলে মেয়েদের একটু উজ্জ্বীবিত করার জন্যই এই আয়োজন”।আমরা প্রতি বছর এটা করে চলেছি।।সাড়াও মেলে ভালো।

প্রথম দিন অভিনেতা সঞ্জীব সরকার সকাল থেকেই জমিয়ে দিয়ে ছিলেন। অভিনয় শিখতে গেলে পাঠশালার প্রথম ভাগ এর মতোই অ আ ই উ জানতে হয়। ছন্দ ও লয় দিয়ে সুরের মূর্ছনায় সবাইকে বিমোহিত করে দেয়। অভিনয়ের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মেরুদন্ড খাড়া করে মঞ্চে কিভাবে দাঁড়িয়ে কল্পনা শক্তিকে জাগরিত করতে হয় তা নিয়ে নানান খেলার অছিলায় যা উপহার দিয়ে গেলেন এর জন্য সঞ্জীব সরকার কে সকলেই মনে রাখবে বহুদিন।

দ্বিতীয়দিন “নাটক শিখতে গেলে একটু তথ্যভিত্তিক বুদ্ধি থাকা দরকার না হলে হোঁচট খেতে হবে “- সে কথাই নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেন বললেন। তবে সময় বদলেছে। কোরোনা আমাদের জীবন যাত্রাকে অনিবার্যভাবে পরিবর্তন এনে দিয়েছে। তাই মঞ্চ নয়।শুধু একটু স্পেস দরকার। যেখানে আপনমনে অভিনয় করতে পারা যায়।দর্শকদের কাছে আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায়। তাই তিনি বললেন “প্ৰথমে তোমাকে “সে” হয়ে উঠতে হবে।যে চরিত্র তুমি করছো। সেটা সে যতক্ষন না হচ্ছ দর্শকদের বোকা বানানো যাবে না।দর্শক জেনে বুঝেই নাটক টা দেখতে আসে।একটা মিথ্যে ঘটনা ঘটেছে। তবু সেটা দর্শক যখন বাস্তব সত্যের অপলকে আবিষ্কার করে কখনও হাসে কিংবা কাঁদে বা রেগে যায় তখন অভিনয়ের মাত্রা কতটা যুক্তিযুক্ত বিবেচিত হয়। শুনে সবাই খুশী।

ওই দিন দ্বিতীয় হাফে কাজল শম্ভু আসেন।তার ছোট ছোট থিয়েটার গেমের পাল্লায় পড়ে ছেলে মেয়েরা আরো উজ্জীবিত হয়। অভিনয়ের প্রাণ আসে। মানিব্যাগ ও পিকনিক -এই দুটি বিষয় বলে দেওয়া হয়েছিল। দুটো দল করে দেওয়া হয়েছিল। কি সাবলীল ভাবে বিনা স্ক্রিপ্ট এ শুধুমাত্র কল্পনা মেধা আর শারীরিক চলনের মধ্যে দিয়ে দুটি নাটক নির্মাণের পরিকল্পনা করে ফেলে।এই দেখে সত্যিই অভিভূত সবাই।

শেষ দিন অর্থাৎ তৃতীয় দিন আসেন নান্দীকার এর স্বজন সৃজন। প্রথমেই পরিচয় পর্ব। অর্থাৎ সকলের মধ্যে হৃদয়ের আত্মিক যোগাযোগ থাকতে হবে। একে অপরকে বিশ্বাস করতে হবে। মেধা শক্তি ও ফিজিক্যাল মুভমেন্ট যে খুবই জরুরী সেই বিষয়ে একটি ছড়া (মা গো আমায় ছুটি দিতে বলা) কে কাজে লাগিয়ে এমন ভাবে মিশে গেছিলেন ছোট বড় সবাই খুশীতে ভরপুর।

কৃষ্ণেন্দু ভট্টাচার্য্য র সান্নিধ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় এবং সব শেষে বিকেলে দুটো নাটক নির্মাণ করে দেখায়। সমস্ত অভিভাবক রা আপ্লুত। তারা বলেন প্রম্পটার এগিয়ে চলুক। কলাকেন্দ্র আরো সফলতা পাক। প্রদীপ রায় বলেন এবছর বাইরে থেকে এতো ছেলে মেয়ে আমাদের অভিনয় শেখার আসরে যোগ দিয়েছে। আমি খুশী।নতুন প্রযোজনা শীঘ্রই নামবে। দলের সবাইকে ধন্যবাদ জানান নাট্য নির্দেশক ও অভিনেতা প্রদীপ রায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *