Breaking News

দিনভর উত্তাপ নন্দীগ্রাম জুড়েঃকার দখলে আন্দোলন ভূমি জানতে অপেক্ষা ১ মাস

Post Views: website counter

 

বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সারা রাজ্যের নজরের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই। বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে এদিন রাজ্যের মোট ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গ্রহন ছিলো।কিন্তু সবার নজর আটকে থেকে ছিলো নন্দীগ্রামেই!

বৃহস্পতিবার সকাল সকাল নন্দীগ্রামের নন্দনায়েকবাড় এলাকায় ভোট দেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের দলেরই এক কর্মীর বাইকের পেছনে চেপে ভোট দিতে যান তিনি। ভোট দেওয়ার পরে নিজের কার্যালয় থেকে ভোট পরিচালনা করেন। পরে তিনি কয়েকটি বুথে পরিদর্শনে যান।

নন্দীগ্রামের বেশ কয়েকটি এলাকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়ে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকে এক যুবককে ভুয়া ভোটার কার্ড নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দুপুরের দিকে নন্দীগ্রাম বিধানসভার বয়ালের ৭নং বুথ বয়াল মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়। মমতা বুথ কেন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ করতেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে কার্যত খন্ড যুদ্ধ বেধে যায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

সকাল থেকেই নন্দীগ্রামের ওই এলাকায় ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের এজেন্টকে বুঝতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকায়। পাশাপাশি ভোটারদের দফায় দফায় হুমকি দেখানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনায় বারবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে জানানো হলেও কোনো রকম সমস্যার সুরাহা হয়নি। বৃহস্পতিবার এই খবর পাওয়ার পর বেলা ১টা নাগাদ রেয়াপাড়ার নিজের অস্থায়ী বাড়ি থেকে ওই বুথের উদ্দেশ্যে রওনা হন মমতা। মমতা বুথের মধ্যে পৌঁছাতে মমতাকে ঘিরে ঝাঁপিয়ে পড়েন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। পাশাপাশি ওই সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বুথের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপির কর্মীরা। ঘটনায় মমতাকে দেখে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে শুরু করে বিজেপি।

সকাল থেকেই নন্দীগ্রামের ওই বুথে বহিরাগতদের দাপাদাপির অভিযোগ উঠেছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বয়েলের ওই বুথে তৃণমূলের এজেন্ট হিসেবে যান স্থানীয় তৃণমূল কর্মী মৃণাল কান্তি জানা। গত কয়েকদিন ধরে তাকে বিজেপির কর্মীরা হুমকি দিতে থাকেন। হুমকি কে উপেক্ষা করে তৃণমূল কর্মী যখন বৃহস্পতিবার বুথে বসতে যান ঠিক সেই সময় তাকে বুথে বসতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। তুমুল অশান্তির মধ্যে পড়ে ওই এজেন্ট বাড়ি ফিরে আসেন।

পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ তার বাড়ি যান তাকে আনার জন্য। তবে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তৃণমূল এজেন্টের মা পারুল বালাজানা বলেন, “আমার ছেলে ও পরিবারকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখন নিরাপত্তা আছে কিন্তু পরে আমরা থাকবো কিভাবে। তাই ছেলেকে যেতে দেব না।” একইভাবে ভোটারদের হুমকি দিতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। সমস্ত ঘটনা শোনার পর যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই এলাকায় যান তখন মমতা বুথে ঢুকে যাওয়ার পরেই বুথের বাইরে কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়। শুরু হয় ইটবৃষ্টি। আহত হন উভয় দলেরই বহু সমর্থক। ঘটনা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খান রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বুকের মধ্যে আটকে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান নন্দীগ্রাম থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী।ঘটনাস্থলে যান নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরাও। ওই এলাকায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা মরার পরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী দেরি করে আসার জন্য অভিযোগ তুলতে থাকে তৃণমূল। প্রায় দু’ঘণ্টা পর ওই বুথ কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে বুথের মধ্যে থেকেই রাজ্যপালকে গোটা ঘটনা জানান মমতা।মমতা বলেন, “নন্দীগ্রাম নিয়ে আমি চিন্তিত নই। গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উস্কানিতে বহিরাগতদের এনে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা চলছে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের গুন্ডারা এসে ঝামেলা করছে। একজনও বাংলা বলতে জানেনা সব হিন্দি বলছে। আমরা আদালতে যাব। নির্বাচন কমিশনের সকাল থেকে ৬৩ টা অভিযোগ জানিয়েছি।”

এদিন দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বয়ালের বুথ পরিদর্শনে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী ফিরে আসার পর ওই বুথে যান শুভেন্দু। সেখানকার গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, “বেগম এবার হারবে। কেন্দ্রীয় মিলিটারি ফোর্স আছে তাই এখানে শান্তি ভাবে ভোট হচ্ছে। সুফিয়ান মডেল ও সামাদ মডেল পুরো ফেল। বেগমের দুধেল গাইরা কিছু করতে পারবে না। নন্দীগ্রামের বেশ কয়েকটি বুথের তৃণমূল এজেন্ট দিতে পারিনি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল কেন  এজেন্ট দিতে পারেনি সেটা ওরা বলবে। তবে এবার বেগম হাঁটছে এবং বিকাশ জিতছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *