Breaking News

‘সুন্দরবনের গপ্পো’ এক অন্য জীবনের গল্প

Post Views: website counter

ইন্দ্রজিৎ আইচ

‘সুন্দরবনের গপ্পো’। প্রদীপ মিস্ত্রীর পরিচালনায় এই প্রথম তার বাংলা ছবি কলকাতার বিভিন্ন হলে মুক্তি পেলো।এই ছবির প্রিমিয়ার হলো ভবানীপুর এর ইন্দিরা হলে। ছবির বিষয়বস্তু হলো সুন্দরবনের মানুষের কঠিন জীবনযাত্রা ও জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার গল্প। যার আবর্তে আছে সুন্দরবনের বর্গী পরিবার। বেশ কিছু সনামধন্য চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি অংশ নিয়েছে, পেয়েছে 5th বার্লিন বেভিলিউসন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এই ছবির বিশেষ পুরস্কার।

শ্রীকৃষ্ণ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্মস ও ডেসটিনেশন পিকচারস-এর ব্যানারে ছবির প্রযোজক শুভঙ্কর বিশ্বাস ও এস কে মণ্ডল। চিত্রগ্রাহক প্রিয়রঞ্জন বেহেরা। সুরস্রস্টা প্রসেনজিৎ দে। ‘বন্দে মা তরম’-এ গানের গলাও দিয়েছেন প্রসেনজিৎ দে সঙ্গে পাপড়ি মহাজন।

ছবির কেন্দ্রে আছে দুটি শিশু, অবিনাশ রাই (নরেন) ও রোহিনী সেন (ঝিনুক)। সঙ্গে নরেন এর বাবার চরিত্রে প্রখ্যাত অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় দারুন অভিনয় করেছেন,পাশাপাশি রহমান ডাকাত সর্দার এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দেবেশ রায়চৌধুরী। এছাড়া সন্দিপ মন্ডল, শান্তনু দাস, চিত্রা মুখোপাধ্যায়, সুজিত মুখোপাধ্যায় সহ অনেককে দেখা যাবে এই ছবিতে। গল্পটি শুরু হয়, সুন্দরবনের এক মৎস্যজীবী পরিবারের একটি বাচ্চা ছেলে নরেনকে দিয়ে।

জঙ্গলে গিয়ে মাছ ধরায় তার বিশেষ কৌতুহল। একদিন সে তার বাবার সঙ্গে জঙ্গলে যায়। রাতে সবাই মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকলে তার বাবাকে বাঘে জঙ্গলের ভিতর টেনে নিয়ে যায়। সবাই মিলে বাঘকে ধাওয়া করে এবং নরেনও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। জঙ্গলের ভিতর সে পথ হারিয়ে ফেলে। একটি ছোট্ট মেয়ে এসে তাকে বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং জঙ্গলের মধ্যে নিজের ট্রি-হাউস এরিয়াতে নিয়ে আসে। নরেন জানতে পারে মেয়েটি জঙ্গল-ডাকাত রহমানের একমাত্র কন্যা ঝিনুক। নরেন তাদের সঙ্গে নিরাপদে থাকতে শুরু করে। নরেন ও ঝিনুক খুব ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে।

রহমান ভয়ঙ্কর ডাকাত হলেও একজন বাবা হিসেবে খুব আবেগপ্রবণ। ঝিনুক নরেনকে জঙ্গল ঘুরিয়ে দেখায়। সে পড়াশুনা করে না জেনে নরেন তাকে পড়াতে শুরু করে এবং ঝিনুকও ক্রমশ আগ্রহী হয়ে ওঠে। একদিন নরেন, ঝিনুক ও রহমান নৌকোয় চেপে জঙ্গল পরিদর্শনে বের হয়। হঠাৎ একজন ফরেস্ট অফিসার রহমানকে ধরে ফেলে। জেলে মাঝির পোশাকে সেজে থাকা রহমান সেই অফিসারকে জেলে বলেই পরিচয় দেয়। নরেন মনে মনে ভাবে যে, সত্যি কথা বললে সে বাড়ি ফিরে যেতে পারবে, কিন্তু তাতে রহমান গ্রেফতার হয়ে যেতে পারে। তাই ঝিনুকের কথা ভেবেই তার মন সত্যি বলতে সায় দেয় না। কীহবে নরেনের? ছবির গল্পটা পুরো বলে দিলে ছবি দেখার মজা নষ্ঠ হয়ে যায়। অসাধারণ একটা ছবি “সুন্দরবনের গল্প”।

সকলেই ভালো অভিনয় করেছেন।কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা প্রদীপ মিস্ত্রি। অরিন্দম গায়েন এর সম্পদনা দারুন। সব মিলিয়ে ছোট বড় সকলের দেখার মতন ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *