Breaking News

পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভের আঁচ লাগল তৃণমূলে

Post Views: website counter

 

প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভের আঁচ এবার পূর্ব মেদিনীপুরেও ।শুক্রবার তৃনমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন ।তার পরেই ক্ষোভ বিক্ষোভের ঘটনা সামনে আসে।

এই জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে মুলত উত্তর কাঁথি, পটাশপুর ও চন্ডীপুর আসনে প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ বিক্ষোভ আছে ।সেই ক্ষোভ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার কেউ পথ অবরোধ করে উগরে দিয়েছে।

 

উত্তর কাঁথি বিধানসভা আসনে তৃনমূল প্রার্থী করেছে তরুন জানাকে।দেশপ্রান পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তরুন জানার পরিবর্তে কাঁথি ৩ ব্লকের সহ সভাপতি বিকাশ বেজ কিংবা জেলা পরিষদ সদস্য নন্দ মাইতিকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে ভাজাচাউলিতে পথ অবরোধ করে কয়েক জন তৃনমূল কর্মী সমর্থক।

অপরদিকে দক্ষিন কাঁথি কিংবা এগরা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ গিরি ।কিন্তু দক্ষিন কাঁথিতে দল জ্যোতির্ময় কর ও এগরায় তরুন মাইতিকে প্রার্থী করেছে।এর পরেই আশাহত হয়ে

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি। তিনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন ” মজা করে বন্ধুরা বলতো পয়সা না থাকলে রাজনীতি করতে যাস না, আজ পারফরম্যান্সকে হার মানতে হলো পয়সার কাছে, আজ বুঝলাম পারফরম্যান্সকে কোনো দাম নেই এই যুগে “। মুহুতে মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও তিনি প্রকাশ্যে মুখ খুলে কিছু বলেননি, তবে তাঁর ফেসবুক পোস্ট প্রকাশ করে দিল তাঁর মনের ব্যাথা।

প্রকাশ্যে বিক্ষোভ না করলেও সুপ্রকাশ গিরির অনুগামীরা বলছেন শুভেন্দু অধিকারি তৃণমূল ত্যাগ করার পর পূর্ব মেদিনূপুরের হাল ধরেছিলেন যুব তৃণমূল কং এর সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি। সে দিন থেকে একটানা বিজেপি দল ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ময়দানে লড়াই করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ২১ শে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার পরই মনে খুব দুঃখ পেয়েছেন। যাঁর কারনে আঘাত পেয়েই হয়তো ফেসবুক পোস্ট করেছেন তিনি।

অন্যদিকে চন্ডীপুর বিধানসভার  জয়ী বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্যের নাম বাতিল প্রার্থী তালিকা থেকে সে জায়গায় প্রার্থী হিসেবে রয়েছে সোহম চক্রবর্তীর নাম। যাঁর ফলে বিস্মিত হয়েছেন বর্তমান বিধায়ক অমিয়বাবু। তাঁর চোখেমুখে বিস্ময়ের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। তবু তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থী তালিকা নত মস্তকে মেনে নিয়েছেন।

অমিয়বাবু বলেন যে প্রার্থী হবে লড়াই হবে, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মনোনীত প্রার্থী বেছে এখানে দাঁড় করিয়েছেন তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই, ৯২ সাল থেকে দলের সঙ্গে আছি, ভবিষ্যতেও থাকব দল পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না, কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব। তবে আমাকে প্রার্থী না করানোর কারনে আমার চন্ডীপুর বিধানসভার অন্তর্গত নব্বই ভাগ কর্মী দুঃখ প্রকাশ করেছে। সোহম দাঁড়িয়েছে ,কত ভোটে জেতাতে পারব কি পারব না, তা মানুষ বলতে পারবে জনগণ বলতে পারবে আমরা বলতে পারব না। তবে আমরা যত ভোটে জিতেছি, তাঁর থেকে বেশি ভোটে জিতবে সোহম।

তবে এদিকে চন্ডীপুরের জয়ী বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্যের চোখেমুখে একটা দুঃখের ছাপ দেখা যায়, এক কথায় বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না।অপরদিকে পটাশপুর আসনে গত কয়েকটা বিধানসভা আসনেই স্থানীয় নেতারা দাবি করছিলেন এলাকার কাউকে প্রার্থী করার।কিন্তু সেটা হয়নি।এই আসনে কাঁথি থেকেই জেলা পরিষদ সদস্য উত্তম বারিককে প্রার্থী করেছে দল।

গত ২০১১ ও ২০১৬ সালে কাঁথি থেকে জ্যোতির্ময় করকে দল প্রার্থী করেছিলো।এর জেরে পটাশপুরের বাসিন্দা পুর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মৃনালকান্তি দাস ও পটাশপুর ১ ব্লকের সহ সভাপতি তাপস মাঝি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।নিজেদের ক্ষোভের কথা সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে তৃনমূল নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন এই নেতারা। প্রসঙ্গত পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় চারজন বিধায়কের টিকিট বাতিল করে নতুন মুখ এনেছে তৃণমূল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *