Breaking News

রাজ্যে প্রথম হলদিয়াতে করোনা অতিমারীর আবহেই “দাক্ষিনাত্যের রুই” মাছ এর সফল চাষ

Post Views: website counter

 

মারন করোনা ভাইরাস এর প্রকোপ চলেছে বিগত ইংরেজী বর্ষে।নতুন ইংরেজী বর্ষেও তার প্রভাব আছে ।এর জেরে বিভিন্ন শিল্পে,কর্মস্থলে প্রভাব পড়েছে।তার জেরে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন।এর মধ্যেই সুখের খবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মৎস্যজীবিদের।এই জেলার হলদিয়া ব্লক মৎস্য দপ্তরের উৎসাহ ও উদ্যোগে এখানকার মটস্যজীবিরা প্রায় হারিয়ে যাওয়া অতি সুস্বাদু মাছ “দাক্ষিনাত্যের রুই” মাছের প্রথম সফল বানিজ্যিক চাষ করল ।

পূর্বমেদিনীপুর জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আনন্দময় অধিকারি হলদিয়ার মাছচাষের রাজ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় অগ্রগতিতে উৎসাহ দিচ্ছেন রাজ্যের মানচিত্রে হলদিয়া মৎস্যক্ষেত্রের ব্যাপক সাফল্য দিচ্ছে

জানা গেছে গত বছরের একেবারে শেষের দিকে হলদিয়ায় ছাড়া হয়েছিল “দাক্ষিনাত্যের রুই” মাছের চারা । তারপর করোনা অতিমারীতে যখন সব স্তব্ধ তখন নিভৃতে বেড়ে উঠেছে এই মাছ। খুব সফল ভাবে রাজ্যে প্রথম “কর্ণাটকের রুই” বা “দাক্ষিনাত্যের রুই” মাছের চাষ হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ব্লকে।

অধিক মাছের উৎপাদনে বৈচিত্রময় মাছ চাষে হলদিয়া এক অনন্য নজির। শুধু হারিয়ে যাওয়া মাগুর , শিঙ্গি, কই , সরপুঁটি ইত্যাদি মাছের যেমন সফল বানিজ্যিক চাষ হচ্ছে সেই সাথে রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাস কার্প , কমন কার্প এর সাথে সাথী ফসল হিসেবে নিত্য নতুন মাছ চাষের উদ্যোগ গ্রহন করছে হলদিয়া মৎস্য দপ্তর।

বিগত বছরের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় মিঠে জল মৎস্য গবেষনা কেন্দ্র “সিফা”, ভূবনেশ্বর থেকে “দাক্ষিনাত্যের রুই” মাছের চারা আনা হয়েছিল হলদিয়া।

হলদিয়া ব্লকের মৎস্যচাষ সম্প্রসারন আধিকারিক সুমন কুমার সাহু জানান, এই দেশি মাছটি নদীর মাছ, একেবারের রাক্ষুসে নয় তাই খুব সহজেই বাড়ির পুকুরে অন্যন্য দেশি মাছের সাথে মিশ্র চাষ করা যায়। মাছটির বিজ্ঞানসম্মত নাম লেবিও ফিমব্রিয়েটাস। মাছটি প্রধানত দক্ষিন ভারতের নদ নদীতে পাওয়া যায়। কাবেরী, কৃষ্ণা , মহানদী্, নর্মদা‌ ও তুঙ্গভদ্র নদীতে পাওয়া যায়। কর্নাটকের স্থানীয় নাম “খেমমীনু” নামে পরিচিত। মালায়ালামে বলে “ফিরি চুন্দন” । মাছটি শাকাহারী মাছ, তাই অনায়াসেই আমাদের রুই, কাতলার সাথে এক সাথে চাষ করা যায়। জলের নীচের স্তরের খাবার গ্রহন করে। উদ্ভিদ কনা , পোকা মাকড় , তলদেশের বিভিন্ন জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে।
১৭৯৫ সালে ব্লোচ নামক বিজ্ঞানী প্রথম মাদ্রাস উপকূলীয় নদীতে এই মাছের সন্ধান দেন। তবে বর্তমানে আমাদের দেশে একটি হারিয়ে যাওয়া মাছের মধ্যে পড়ে। যেহেতু রুই, কাতলা ইত্যাদি কার্প জাতীয় মাছের মতো নদীর মাছ তাই পুকুরে প্রজনন করেনা ।

একে কৃত্রিম ভাবে প্রজননের মাধ্যমে বানিজ্যিক চাষের উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য গবেষনা কেন্দ্র। মাছটি সর্বাধিক ৩.৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাছটি মাঝারি মানের কার্প জাতীয় মাছ ধীরে ধীরে বড় হয়। রুই, কাতলার সাথে সাথী ফসল হিসেবে “দাক্ষিনাত্যের রুই” মাছটি যেমন চাষির বাড়তি আয় বৃদ্ধি করবে তেমনি মাছ প্রিয় বাঙলীর স্বাদের শ্রী বৃদ্ধি করবে ।

হলদিয়া ব্লকের বেশ কিছু প্রগতিশীল মাছ চাষি এই মাছের ছাষ শুরু করেছেন। বসানচক গ্রামের শরত চন্দ্র ভৌমিক, দ্বারিবেড়িয়া গ্রামের মৃন্ময় সামন্ত , চকলালপুরের সফি আহমেদ প্রমুখ। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে লাভজনক “কর্নাটকের রুই” মাছের চাষে উৎসাহিত মাছ চাষিরা আগামী বছর ব্যাপক হারে এই মাছের চাষ করবেন।
হলদিয়ার হাত ধরে রাজ্যে বেশ কিছু মাছের পরিচিতি ঘটল , এবার “কর্নাটকের রুই” এই মাছের স্বাদ পেতে চলেছেন রাজ্যবাসি।

হলদিয়া ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জয় দাস , হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুব্রত হাজরা, সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ গোকুল মাজি প্রমুখ হলদিয়া মাছ চাষের এই অগ্রগতিতে মাছ চাষিদের পাসে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *