Breaking News

করোনা আবহে নিজেদের এলাকায় পূজা চালু করলো আদিবাসীরা

Post Views: website counter

 

প্রদীপ কুমার সিংহ

দক্ষিন ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত বয়নালা গ্রামে দুর্গাপূজায় মেতেছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। এখানে ১৭টি গ্রামে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার আদিবাসী সম্প্রদায় মানুষের বাস করে। জানা গেছে এই এলাকায় মুলত তিনটি সম্প্রদায়ের মানুষ থাকে।সেই সম্প্রদায় গুলি হল মুন্ডা, ওড়াংগ সাঁওতালি।

বিগত কয়েক বছর ধরে এই মানুষগুলোই আগে ঠাকুর ও মন্ডপ দেখতে পার্শ্ববর্তী মন্ডপ গুলিতে ভীড় জমাতো। মারন ভসিরাস করোনা আবহে এবার বাড়ি থেকে বেশী দুরে গিয়ে আনন্দ করতে মন চায়নি এই মানুষ গুলোর।এদিকে এর কারনে এলাকার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মন খারাপ।এর উপর এলাকার বয়স্ক বয়স্কারাও একই কারনে কষ্ট পাছে জানার পরেই নতুন পুজা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত আদিবাসী গ্রাম গুলির যুবকদের।গ্রামের এই অনুন দুর্গাপূজাকে ঘিরে আনন্দে মেতে উঠেছে এলাকার আদিবাসী পরিবার গুলির কচিকাঁচা ও বয়স্করা।উল্লেখ্য এই আদিবাসী গ্রাম গুলির দুই প্রান্তে আগে থেকে দুটি পুজা হচ্ছিলো।এবার ১৭টি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় নতুন একটি পূজা চালু হওয়ায় সার্বজনিন পুজার সংখ্যা বেড়ে তিন হল।

বয়নালা গ্রামে এ বছর পূজো ১৬ বছরে পদার্পণ ক্রলো। এই গ্রামের প্রায় ৪০০ জন মানুষ বাস করে।

যদিও আদিবাসীরা মূর্তি পূজা করে না ওদের দেবতা মারাং গুরুন কে পূজা করতো। কিন্তু দুর্গাপূজার সময় বাড়ির ছেলে মেয়েরা দূরে দূরে ঠাকুর দেখতে যেত অনেক রাত করে বাড়ি ফিরতো তাতে পরিবারের লোকেদের অসন্তুষ্ট হত।

তাই গ্রামের বড় মানুষেরা মনে করে নিজের গ্রামে পুজো হলে তাহলে ছেলে মেয়েটা অন্য কোথাও যেতে পারবে না। সেই হিসেবে এই পুজোটা আরম্ভ করেছিল।

বর্নালা গ্রামের মেয়েরা অষ্টমীর দিন প্রায় শতাধিক এর ওপর মহিলা অঞ্জলি দিলেন দূর্গা মায়ের কাছে।
তাছাড়া এই অশ্রুর দিন সকাল বেলায় এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা দুগ্গা মায়ের মন্দিরের সামনে তাদের সেই লোক নৃত্য পরিবেশন করে।
ওই পূজা কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায় দুর্গাপূজা টা মূল লক্ষ্য নয় ওদের মূল লক্ষ্য মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া।

তবে হাইকোর্টের নিয়ম অনুসারে তারা মন্ডপের ভেতর নো এন্ট্রি’ বোর্ড ঝুলিয়ে, স্যানিটাইজা করে এবং প্রত্যেকে মানুষের মুখে মাক্স দেখা গেছে।
এ বছরে করোনা আবহাওয়ার জন্য ওদের অনুষ্ঠান হবে না কিন্তু প্রত্যেকবারই ওরা নিজেরা পাড়ার ছেলে মেয়ে সবাইকে নিয়ে দুর্গাপূজার দিনগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে আনন্দ উপভোগ করতো।
নবমীর দিন কে বয়নালা গ্রামের পূজা কমিটির থেকে প্রায় এক হাজার মানুষকে মায়ের মহাপ্রসাদ ভোগ বিলি করতো।

এই পুজোতে দশমীর দিন  সিঁদুর খেলায় মহিলারা আনন্দে মেতে উঠতো। এবার কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশে তা হবেনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *