Breaking News

আমফানে দাপটে গৃহহীন, সরকারী সাহায্য না পেয়ে প্রতিবেশী বাড়িতে আশ্রয় নিলো দম্পতি

Post Views: website counter

 

ঘুর্নিঝড় আমফান বয়ে যাওয়ার পরে কেটে গেছে কয়েক মাস ।সেই ঝড়ে বাড়ি উড়ে মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁইও চলে গেছে।তবু জুটেনি সরকারি সহায়তা!

স্থানীয় প্রশাসন আর সরকারের নির্মম উদাসীনতা উপেক্ষা করে তারপরেও কোন ক্রমে সেই বাড়িতেই মাথা গুঁজে কাটাছিলেন স্বামী-স্ত্রী ।এর উপর একটানা বৃষ্টিতে বাড়ির অবশিষ্ট অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। তাই সর্বহারা হয়ে সরকারী সাহায্য না পেয়ে প্রতিবেশী বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন এই দম্পতি।অভিযোগ সরকারী সাহায্য চেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক সর্বত্র বারে বারে আবোদন জানিয়েও আমফান ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্ত এই দম্পতি কানাকড়িও সরকারী সাহায্য পায়নি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের বামুনিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাওয়া গ্রামের জয়দেব নায়ক অত্যন্ত হত দরিদ্র পরিবার। বহু কষ্টের ধারদেনা করে এক মেয়ের বিয়ে দেন তিনি। স্বামী-স্ত্রী কোনরকমে দীন মজুরি করে দিনযাপন করতেন। গত তিন মাস আগে আম্ফান ঝড়ের বাড়ির চালা উড়ে যায়। তারপরে সামান্য বৃষ্টিতে বাড়িটাও ধুলিসাৎ হয়ে যায়। এর জেরে গৃহহীন হয়ে পড়েন জয়দেব বাবু ও তাঁর স্ত্রী।

কয়েকদিন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক, সরকারি দপ্তরে দরজা কড়া নাড়িয়েও কোন সাহায্য না পেয়ে অবশেষে প্রতিবেশীর দ্বারস্থ হয় জয়দেব নায়ক৷ শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীরকে ধরে কোনো রকমের বাড়ির এক কোনে জায়গা পেয়েছেন তিনি।এমত অবস্থায় দিশেহারা জয়দেব বাবু সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেয়।

চোখের জলে কাঁদতে কাঁদতে জয়দেব নায়ক অভিযোগ করে বলেন আমফান ঝড়ের বাড়ির কিছুটা চালা উড়ে গিয়েছিল। এরপর সামান্য বৃষ্টিতে বাড়ির পুরো অংশ মাটিতে মিশে গিয়েছে। এনিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিস ব্লক প্রশাসন একাধিক সরকারি দপ্তরে জানিয়েও কোনো সরকারি সাহায্য পাননি। অবশেষে স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে রয়েছেন। ঘটনার সত্যতা জানতে এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য অঞ্জনা ত্রিপাটি ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন পঞ্চয়েতে কাগজ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কোন পেল না তা জানা নেই।

কিছু সময় পরে ওই পঞ্চায়েত সদস্য স্বামী প্রতিবেদককে ফোন করে তার সঙ্গে রুঢ় ব্যাবহার করেন।

যদিও কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের বিডিও মনোজ মল্লিক বলেন বহু মানুষ আবেদন করেছিলেন। কিন্তু জয়দেব বাবুর বিষয়টি জানা নেই৷ বিষয়টি তিনি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন।

কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তরুণ জানা বলেন বিষয়টি নজরে এসেছে।এই দম্পতি কি ভাবে সরকারী সাহায্য পান তা ব্যাবস্থা করা হবে।

এই আশ্বাস শুধুই ফাঁকা বুলি নাকি প্রকৃত ,সেটাই এখন দেখার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *