Breaking News

প্রেমে বাধা, প্রেমিকার গলা কেটে নিজের গলা কাটল প্রেমিক

Post Views: website counter

 

সামনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা।তাই প্রনয়ের সম্পর্ক থেকে নিষ্কৃতী চাইতেই ঘটলো অঘটন।সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটবে বুঝতে পেরেই পরিকল্পনা করে মোবাইল ফোন দেওয়ার নাম করে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে এসে,ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে পরে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলো প্রেমিক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে।

স্থানীয়দের থেকে জানা গেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহিষাদলের সতীশচন্দ্র সামন্ত হল্ট রেল স্টেশন সংলগ্ন একটি রাস্তার ধারে এক যুবক ও যুবতীকে গলাকাটা অবস্থায় রক্তাক্ত দেহ নিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন । এর জেরে আতংক চরম আকার নেয় ।সাথে সাথে স্থানীয়রা মহিষাদল থানার খবর দেওয়া হয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে যুগলকে উদ্ধার করে প্রথমে বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। বর্তমানে প্রেমিক -প্রেমিকা চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অভিক্সুক্ত প্রেমিক অসীম ঝুলকি (২৪) মহিষাদলের নাটশাল-১ ব্লকের কুম্ভচক গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি ভিন রাজ্যের শ্রমিক। স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে গত প্রায় এক বছর আগে পাশের গ্রাম বাসুলিয়ার এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এই যুবকের। সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও দৃঢ় হতে থাকে। সম্পর্কের কথা গত বেশ কয়েক মাস আগে জানতে পারে প্রেমিকা কিশোরীর পরিবার। তবে ওই প্রেমিকা বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী হওয়ায় সামনে জীবনের বড় পরীক্ষা থাকায় প্রেমের সম্পর্কে বাধা দেয় পরিবার। প্রেমিক অসীম ঝুলকির সঙ্গে কথাও বলেন প্রেমিকার মা।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেমিকা টিউশন পড়তে গিয়েছিল এক শিক্ষকের কাছে। এদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসার সময় স্থানীয় সতীশচন্দ্র সামন্ত হল্ট রেলস্টেশনের কাছে ওই প্রেমিকার সঙ্গে দেখা হয় প্রেমিকের। বেশ কিছুক্ষণ বাচসা হওয়ার পর প্রেমিকার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় প্রেমিক। ঘটনায় বাড়ি গিয়ে ওই প্রেমিকা তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। এরপর ফের প্রেমিক মোবাইলের জন্য প্রেমিকাকে ডেকে পাঠায়। সন্ধ্যা নাগাদ যখন প্রেমিকা মোবাইল ফোন নিতে আসে তখন আচমকা প্রেমিকার গলায় এবং হাতে ছুরি চালায় প্রেমিক। এরপর সেই ছুরি দিয়ে প্রেমিক নিজের গলা কাটে। ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনে।

আশেপাশের স্থানীয় মানুষজন সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেয়ে স্থানীয় মহিষাদল থানায় খবর দেয়। এরপর মহিষাদল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রেমিক-প্রেমিকাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় এবং পরে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। বর্তমানে তমলুক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রেমিক- প্রেমিকা। এই ঘটনায় প্রেমিকার মা বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধায় আমার মেয়ে যখন টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল তখন ছেলেটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর বাড়ি ফিরে এসে মেয়ে আমাদের গোটা ঘটনাটি বলে। পরে ওই ছেলেটি মোবাইল ফোনের জন্য মেয়েকে ডেকে পাঠায়। মোবাইল ফোনের জন্য সেখানে গেলে আমার মেয়ের গলা কেটে দেয় ওই ছেলেটি। আমরা যখন যাই তখন রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনে পড়ে রয়েছে।”

এই ঘটনায় হলদিয়া মহাকুমা পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, “এখনো পর্যন্ত উভয়পক্ষের তরফ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। আমরা ঘটনার খবর পেয়ে যখন ঘটনাস্থলে যায় তখন দুজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এরপর আমরা উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই।  এখনই এই ঘটনার সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায় রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *