Breaking News

রেশনে দুর্নীতির অভিযোগে বীরভূমের কাষ্ঠগড়া গ্রামে ডিলারকে ঘিরে বিক্ষোভ

Post Views: website counter

 

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময় গোটা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রেশন ডিলারদের দুর্নীতির অভিযোগে উঠছে । ইতিমধ্যে শাসক দলের একাংশের মদতে রেশন ডিলাররা দুর্নীতি করে জণগনকে প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছেন বলে, এই অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে রাজ্যের সিপিআইএমসহ রাজ্যর অন্য বিরোধী দলগুলো।আর বিরোধীদের এই অভিযোগে কে এক প্রকার সীলমোহর দিল বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার কাষ্ঠগড়া গ্রামের ঘটনা।

বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার অন্তর্গত কাষ্ঠগড়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে রেশন ডিলারের নামে অভিযোগ রয়েছে গ্রামবাসীরদের। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে ফুড ইন্সপেক্টরকে। কিন্তু তাতে কোন কাজ না হওয়ায় আন্দোলন শেষ পর্যন্ত লকডাউনের মাঝেই এক প্রকার বাধ্য হয়ে আন্দোলন শুরু করেন গ্রামবাসীরা। বন্ধ করে দেওয়া হয় রেশন দোকান। যাঁর নামে দুর্নীতির অভিযোগে সেই রেশন
ডিলারে কাজল হালদার। কাষ্ঠগড়া গ্রামেরই বাসিন্দা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রতিটি কার্ডে পরিমাণ মতো সরকার ঘোষিত রেশন দেওয়া হচ্ছে না। বাইরে টাঙানো রয়েছে পুরোনো একটি চার্ট। যার সাথে সরকারের রেশন নিয়ে নতুন ঘোষিত সুযোগ সুবিধার মিল নেই।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে হাতে কার্ড পাওয়ার পরেও অনেকেই রেশন পাচ্ছে না। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই যেখানে ক্যানসেল হচ্ছে কার্ড, অন্যদিকে সেখানেই কিন্তু হাতে কার্ড পেয়েও চার মাস , ছ মাস ধরে অনেকেই রেশন পাচ্ছেন না।
ডিলারের কাছে নেই কোনো কম্পিউটার কাঁটা ।রেশন দ্রব্য দেওয়া হচ্ছে পাল্লা কাঁটাতে ওজন করে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ বাটখারা গুলো নিয়ম মেনে রিনিউ করেন না অভিযুক্ত ডিলার।যে সমস্ত মানুষকে রেশন দিতে পারছেন না তার জন্য নেই কোন ডিউ স্লিপ। শেষমেষ গ্রামবাসীরদের অভিযোগের কোনো সুরাহা না হওয়ায় শুক্রবার ডিলারের দোকান ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসীররা। ঘটনাস্থলে আসে রামপুরহাট থানার পুলিশ । পুলিশ এসে উদ্ধার করে ডিলারকে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বি.ডি.ও এবং ফুড ইন্সপেক্টর এর সঙ্গে কথা বলে গ্রামবাসীদের এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পুলিশ গ্রামবাসীদের জানায়,তাঁরা তাঁদের ন্যায্য রেশন পাবেন এবং রেশন দোকান সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা ও দুপুর ২টা থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

গ্রামবাসীর বক্তব্য ,এটা সরকারি ত্রাণ মানুষের ন্যায্য অধিকার।মানুষ এখন লকডাউনে রোজগারের পথ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে ।অনেক মানুষই অভাব অনটন মধ্যে দিন কাটাচ্ছে । তবুও এই ডিলাররা কি করে গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ কেটে নিচ্ছে। গ্রামবাসীরা বলেন তাঁরা বেশি কিছু চাননি, ন্যায্য মূল্যের দোকান থেকে তাঁরা ন্যায্য টাই চান। এই ডিলারকে তাঁরা বারবার বারবার জানিয়েও কোনো ফল পান নি।তাঁরা চান সরকারি ভাবে কঠোর , পদক্ষেপ নেওয়াহোক এই ডিলারের বিরুদ্ধে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা শাসক দলের এক শ্রেণীর নেতার মদতে এই দুঃসময়েরও একশ্রেণীর রেশন ডিলার দুর্নীতি করে চলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *