Breaking News

নেপাল-ভুটান-ভিয়েতনাম যদি করোনা ঠেকাতে পারে তাহলে ভারত পারে না কেন?

Post Views: website counter

 

তপন মল্লিক চৌধুরী 

ইউরোপ-আমেরিকার মতো বিরাট শক্তিধর দেশগুলোই যেখানে করোনা মোকাবিলা করতে পারছে না সেখানে ভারতের মতো দেশ কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে। অনেকেই এ কথা বলছেন ঠিকই কিন্তু তাঁদের তো এ কথাও ভাবার দরকার রয়েছে যে, অনেকাংশে করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে নেপাল-ভুটান-ভিয়াতনামের মতো দেশ। তাহলে আমরা কেন পারলাম না?

প্রশ্ন তো কেবলমাত্র একটি নয় পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রশ্ন উঠে আসে। আর তার উত্তর খুঁজতে গেলেই বেরিয়ে আসে যে প্রস্তুতি নয় আসলে আমরা কতটা অপ্রস্তুত ছিলাম, কতটা সমন্বয়হীন আমাদের ব্যবস্থাপনা, কতটা দুর্বল আমাদের সুরক্ষার দেওয়াল। আর তাই আমরা সবচেয়ে আক্রান্ত এবং শক্তিশালী দেশগুলির করুণ পরিনতির ছবি দেখিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করছি।
যারা বলছেন ইতালি, ব্রিটেন, আমেরিকা না পারলে ভারত কিভাবে পারবে। তাদের জন্য উদাহরণ হতে পারে ভিয়েতনাম। লোকসংখ্যার কথাটি মাথায় রেখেও বলা যায়, অর্থনীতির দিক থেকে ভিয়েতনামের অর্থনীতি আমাদের কাছাকাছি। চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও যে আমাদের দেশের থেকে অনেক বেশি উন্নত তাও নয়। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে আমাদের অনেক ফারাক।

পরিসংখ্যান বলছে ভিয়েতনামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২৩ জানুয়ারি। এ পর্যন্ত সেখানে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৮ জন। তার মধ্যে ২২৪ জনই সুস্থ হয়েছেন। বাকিরাও সুস্থ হয়ে উঠছেন। চিন সীমান্তবর্তী দেশটিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গিয়েছেন বলে কোনও তথ্য নেই। চিন,আমেরিকা, ইতালির মতো তুলনায় তারা বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে। কারণ ইতালি-আমেরিকা প্রথম দিকে উদাসিন থেকে যে ভুল করেছে ভিয়েতনাম সেই ভুল করেনি।

শ্রীলঙ্কায় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩০ এর মধ্যে মৃৎ ৭, সুস্থ ১০৫। নেপালে আক্রান্তের সংখ্যা ৫১, সুস্থ ৭, কোনও মৃত্যু নেই। ভুটানেও করোনা আক্রান্ত হয়ে কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এখন পর্যন্ত। ভুটানে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৭ জন, সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। এই দুটি দেশেই করোনা ছড়িয়েছে সীমান্তবর্তী দেশ চিন থেকে।

ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৯৮, মৃত্যু ১০ এবং সুস্থ্য হয়েছেন ১২২ জন। বলিভিয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩৫, মৃতের সংখ্যা ৪৩ জন, সুস্থ হয়েছেন ৪৪ জন। কিউবায় ১, ১৮৯ আক্রান্তের মধ্যে মৃত এবং সুস্থ ৩৪১।

এই দেশগুলো প্রায় সবগুলো করোনা মহামারীর প্রকোপে বিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশের হয় পার্শ্ববর্তী দেশ, না হয় প্রচুর পর্যটক যাতায়াত রয়েছে। কোন কোন দেশের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস্য পর্যটন। সবমিলিয়ে করোনা না পৌঁছানোর কোনো কারণ নেই এইসব দেশেও। কিন্তু দেখা গেছে তারা দারুনভাবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের করোনা পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণের সাফল্যের ক্ষেত্রে রয়েছে আগাম প্রস্তুতি এবং মানবিক উদ্যোগ।

উল্লেখিত দেশগুলি জানুয়ারি মাস থেকেই করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরি দিক ছিলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে জনগণকে সতর্ক করা। অন্য কোনও দেশের কপি-পেস্ট পরিকল্পনা নয়, নিজের দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা পরিকল্পনা করেছিল। যেভাবে তার দেশের জনগণকে সুরক্ষার মধ্যে আনা যায় তারা সেভাবেই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
ভিয়েতনামকে বহু বছর বাইরের শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। সেখানকার নাগরিকরা বিদেশি আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন বারবার। ফলশ্রুতিতে তাদের ভেতর জাতীয়তাবোধ কাজ করে প্রচুর। আর করোনা মোকাবেলায় সেই দিকটি কাজে লাগিয়েছেন ভিয়েতনাম সরকার।

সে দেশের প্রধানমন্ত্রী এনগুয়েন জুয়ান ফুক বলেন, খুব দ্রুত এই ভাইরাস এখানে এসে পড়বে। এই সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা মানে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই। করোনার থেকে সর্তকতামূলক প্রচরে এই পদ্ধতি খুব কাজ দিয়েছে। সেইসঙ্গে কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি জোড়দার করা, অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রীও তারা পৌঁছে দিতে পেরেছেন সব ধরনের সংক্রামণ বাঁচিয়েই।

ভুটান এবং নেপালের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তারা করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার আগেই নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়। এবং প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই তার আশেপাশের সংস্পর্শে আসা লোকজনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠায়। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই নেপাল তাদের সীমান্তে এবং বিমান বন্দরে কড়াকড়িভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে। যেহেতু নেপালে প্রচুর পর্যটক আসে তারা সেই দিকেও বিশেষ নজর দেয়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখন পর্যন্ত দেখা গেছে যেসব দেশ করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার আগেই তা ঠেকানোর প্রস্তুতি নিতে পেরেছে তারাই প্রতিরোধ করতে পেরেছে। নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছে। যারা শুরুতে ভুল করেছে তারা প্রতি দিন প্রতি ঘণ্টায় সেই ভুলের মাশুল গুনছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *