Breaking News

শিল্প না হলে জমি ফিরিয়ে দিক সরকার দাবী তুলে আন্দোলনে কৃষকেরা

Post Views: website counter

বাপী দে

কৃষক আন্দোলনে উত্তাল বোলপুর থানার শিবপুর গ্রাম। বাম আমলে প্রায় তিনশো একর জমি অধিগ্রহণ করা হয় শিল্পের জন্য। কিন্তু চাষীদেরকে জমির সঠিক মূল্য দেওয়া হয়নি বলে তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আন্দোলন করা হয়। আন্দোলনের জেরে তখনকার মতো থমকে যায় শিল্পের কাজ। অধিগ্রহণ করা জমিতে শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হলেও স্থানীয় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের জেরে ফিরে যায় বহু শিল্প সংস্থা। এরপর রাজ্যে পালা পরিবর্তন হয়, ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে শিল্পের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এখানেও ব্যর্থ হয় বর্তমান রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা জমি পড়ে থাকার কারণে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছিলেন জমিদাতারা। ধীরে ধীরে চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সরকারি বৈঠকের হাজির হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবারই বীরভূমে এসে তিনি বলেন শিবপুরে শিল্প হচ্ছে, চাষীদের বক্তব্য শিল্প হচ্ছে বলে যে প্রকল্প গুলি করা হচ্ছে শিবপুরের অধিগৃহীত জমিতে তাতে স্থানীয় আশেপাশের গ্রামের মানুষদের কোন রুজি রোজগারের ব্যবস্থা হবে না। জমি কাটা চাষীদের দাবি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গীতবিতান নামে যে আবাসন প্রকল্প শুরু করেছেন তা এলাকার মানুষ চায় না, চাষীদের মূল দাবি হলো শিল্প হলে জমি অবশ্যই সরকার নিতে পারে তাতে কোন আপত্তি নেই, কিন্তু শিল্প না হলে জমি ফিরিয়ে দিক সরকার সাথে চাষিরা চাষ করে অন্নসংস্থান করতে পারবেন। চাষিরা ইউ দাবি করেন বর্তমান রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন এই তিনশো একর জমির ওপর একটি কেমিক্যাল হাব গড়ে তোলা হবে, আট বছর পেরিয়ে গেল সেই কেমিকাল হাব তৈরি হয়নি। উল্টে এখানে আবাসন প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। আবাসন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিলো বুধবার দিন জমিদাতা চাষি এবং অনিচ্ছুক চাষিরা। সেভ ডেমোক্রেসি সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, শিবপুরের এই আবাসন প্রকল্প নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ আছে কাজ বন্ধ রাখার, নির্দেশ কে উপেক্ষা করে রাজ্য সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। যতক্ষণ না হাই কোর্ট ফের নির্দেশ দিয়েছে কাজ করার ততক্ষণ এই কাজ বন্ধ রাখতেই হবে। আগামী দিনে যদি কাজ বন্ধ না হয় তাহলে আমরা কিন্তু আন্দোলনের তীব্রতা বাড়িয়ে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করব। বিষয়টি নিয়ে আমরা বীরভূমের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে লিখিত আকারে জানিয়েছি, তবুও কোন সুরাহা হচ্ছে না, বিষয়টি আমরা সুপ্রিম কোর্টে ও জানিয়েছি, এক কথায় আদালত অবমাননা করে রাজ্য সরকার গায়ের জোরে এখানে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো দাবি করেন যে চাষিরা জমি দিয়েছিলেন তাদেরকে ন্যায্য মূল্য সরকার দেয়নি। চাষীদের দাবি যদি শেষ অব্দি রাজ্য সরকার শিল্প গড়ে উঠতে না পারে তাহলে সিঙ্গুরের এর মতই জমি ফেরত দিয়ে দিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *